শুক্রবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৮

অসমাপ্ত কবিতা - ০১

আমার পায়ে পায়ে কবর
আমার পায়ে পায়ে দোযখ।
কবরের ভিতরে দোযখের আগুন
ঝলসে উঠছে। সে আগুনে গা বাঁচানো দায়।
আশ্চর্য! একটুও নেই বাতাস।
এখানেই আমার বাপের জীবন কেটেছে।
তার বাপের, তারও বাপের। আমারও কাটবে।
তাঁদের পিঠে রক্তজবার মত ক্ষত ছিল।
সে ক্ষত আমার পিঠেও আছে। আমার কিংবা আমাদের ক্ষতটা আরো গভীর।
মা মধ্যরাতে গায়ে হাত রেখে ভাবে
একদিন ছেলে বড় হবে। তার
চারপাশে থাকবে না কবরখানা।

সোমবার, ৯ জুলাই, ২০১৮

মনটাকে কাজ দিন - ০১


একটি বিখ্যাত ইংরেজি প্রবাদ আছে, "An empty mind is the devil's workshop" যার অর্থ অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা । বা আমরা এভাবেও বলতে পারি ''ফাঁকা মন শয়তানের ঘর"।
এখন, এখানে দুইটি প্রশ্ন এসে যায় ।
এক.এই শয়তান টা আসলে কি বা কে? এবং দুই. মন কে কি দিয়ে পূর্ণ করা যায়?
আমি মনে করি শয়তান হল আমাদের দেহ। আর মনকে পূর্ণ করতে হবে নৈতিকতা দিয়ে ।
আমরা যদি মানবসত্তাকে বিভাজন করতে চাই তাহলে দুইটি সত্তা খুজে পাব৷ প্রথমত আমাদের দেহ; যাকে আমরা বস্তু সত্তা হিসেবে অভিহিত করতে পারি। এই পৃথিবীটাও বস্তুসত্তা। তাই মানবদেহের সকল চাওয়া পাওয়াও বস্তুগত। সে যেখানে কোন নৈতিকতার ধার ধারতে রাজি নয়।
অন্যদিকে মনকে আমরা নৈতিক সত্তা বলতে পারি। কারন মনের বা বিবেকের ক্ষমতা আছে ভাল-মন্দ, নৈতিক-অনৈতিক বিচার করার। তবে মন কিন্তু একা এই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবে না। আপনার মনকে কাজ দিতে হবে, নৈতিকতা শেখাতে হবে । আর নাহলে আপনার empty মন আপনার দেহের কথা শুনতে বাধ্য হবে।
সুতরাং মনটাকে কাজ দিন।

সাদাত মোঃ সায়েম
মাঝিরা,বগুড়া।

শনিবার, ১৬ জানুয়ারী, ২০১৬

কার লাভ কার ক্ষতি


২০১৫ ঈসায়ীর ৩০ শে ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয়ে গেল এযাবত কালের স্মরণীয় (!) স্থানীয় সরকার নির্বাচন। নির্বাচনের ফলাফল মিডিয়ার বদৌলতে সবারই জানা হয়ে গেছে। আওয়ামীলীগ তাদের সু-বিশাল (!) জনসমর্থনের কারণে বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছে। কোথাও তো সকাল ৮ টার আগেই ভোটগ্রহণ শেষ হয়ে গেছে। সে যাই হোক নির্বাচন পরবর্তী সময়ে জনমনে যে প্রশ্নটি ঘুরপাক খাচ্ছে তা হল নির্বাচনের কারণে আখেরী লাভ কার- ক্ষমতাসীন দলের নাকি বিরোধী শিবিরের? এই উত্তর খোঁজার জন্য অবশ্য কোন যন্ত্রপাতি নিয়ে বসার দরকার নেই। কেননা এটি কোন বৈজ্ঞানিক গবেষণা নয়। এটি অতি সাধারণ একটি বিষয় যা কিছু তথ্য বিবেচনা করলেই বের করে আনা সম্ভব। সে যাই হোক আমরা আলোচনায় ফিরে আসি।
এই পৌর নির্বাচন ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বপ্রথম দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। সেদিক দিয়ে এটি ছিল অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়াও যে কারণে এই নির্বাচন সর্বাধিক গুরুত্ব পাচ্ছিল তা হচ্ছে এই নির্বাচনে দীর্ঘ সাত বছর পর নৌকা আর ধানের শীষের মোকাবিলা হচ্ছিল। তাই অনেকে এই নির্বাচনকে গণতন্ত্রের পুনঃযাত্রাও মনে করছিলেন। যদিও এই সরকার সেই আশায় গুড়ে-বালি দিয়েছে অত্যন্ত চতুরতার সাথে। কিন্তু নির্বাচন যদি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হত আর তাতে যদি বিশ দলের প্রার্থীরা সর্বাধিক আসনও পেত তাতে মনে করি আওয়ামী লীগের কোন ক্ষতি না হয়ে বরং লাভই হত। কেননা এর মাধ্যমে সরকারের ভাব-মর্যাদা উজ্জ্বল হত, সকলের কাছে তাদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ত। কিন্তু এই কারচুপির ফলে তাদের কি লাভ হল? তারা বরং আরো ক্ষতির মুখে পড়ল। এমনিতেই তাদের ভীত খুব একটা মজবুত নয়, তারা টিকেই আছে প্রশাসনের উপর ভরসা করে। উল্টো জনগণ বুঝতে পারল যে, এই সরকারের অধীনে কোন সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। অন্যদিকে যদি বিরোধী জোটের লাভ ক্ষতির কথা বিবেচনা করা যায় তবে দেখা যাবে যে, তাদের তো কোন ক্ষতি নেইই বরং পুরোটাই তাদের লাভ। কেননা আমরা এটা জানি যে ভোটের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা ছিল প্রায় আন্ডার গ্রাউন্ডে। তাদের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড কিছুটা চললেও হামলা-মামলার কারণে জনগণের কাছে যাওয়ার কোন সুযোগই তাদের ছিলনা। এই নির্বাচনের সুবাদে তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা আবার রাজনীতির মাঠে ফেরার সুযোগ পেয়েছেন। জনগণের কাছে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে দলগুলো। সর্বোপরি তৃণমূলের রাজনীতিতে অনেকটাই ছন্দ ফিরে এসেছে এই নির্বাচনের ফলে। অন্যদিকে যে গুরুত্বপূর্ণ লাভটি বিরোধীদের হয়েছে তা হল জনগণের ভুল ভাংগাতে পারা। সাধারণ জনগণের পাশাপাশি অনেক নেতাকর্মীরাই এতদিন মনে করত যে, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ না নিয়ে বিশ দলীয় জোট ভুল করেছিল। সেখানে অংশ নিলে হয়তবা সেটি সুষ্ঠু হত। কিন্তু বিশ দলের সেই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তটি যে কতখানি ঠিক ছিল তা প্রমাণিত হয়ে গেল এই নির্বাচনে।
সর্বোপরি সকল দিক বিবেচনা করলে এটা সুস্পষ্ট যে, লাভ ক্ষতির বিচারে বিরোধীদের লাভের পাল্লাই ভারী সরকারী দলের থেকে।

সাদাত মোঃ সায়েম
ধানঘড়া,গাইবান্ধা।